“শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের খেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান।”
— জীবনানন্দ দাশ

কার্তিকের শেষ , হেমন্তকাল।
আকাশে হালকা মেঘেরা তুলোর মতো ভেসে বেড়ায় , তবু রোদে একরকম নরম সোনালি আভা।
বাতাসে ধানের গন্ধ। তাদের রোদঝরা সোনালি হওয়ার অপেক্ষায় বেলা গড়িয়ে যায়।
ঘাসফড়িং ধরতে ব্যস্ত ফিঙে ।
দূরের পুকুরপাড়ে পানকৌড়ির মেলা।
বিকেলের বিষণ্ণ রোদ গড়িয়ে পড়ে মেঠোপথে, হাওয়া বয়ে যায় নিঃশব্দে।
ধানখেত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নরম আলো।
কারা যেন তাড়াহুড়ো করে উঠোনের রাখা আচারের বোয়াম,
শালু দিয়ে ঢাকা কুমড়ো বড়ি, ফুলবড়ি ঘরে তোলে, উঠোন নিকোয়।
নিকানো উঠোনে এঁকে দেয় আলপনা।
বেজে ওঠে শাঁখ|
পাশের ঝাঁকড়া মাথায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা
শিমুলের ডালে ডেকে উঠে লক্ষী পেঁচা ।

দূর আকাশ জ্বলে ওঠে বছরের শেষ আকাশপ্রদীপ।
ঘরের উঠোনের এক কোণে বাঁধা বাঁশ|
বাঁশের মাথায় বেঁধে রাখা কৌটোয় তেলভরা সলতে|
কেউ বলে—পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে,
আবার কেউ—হেমন্তলক্ষ্মীর মঙ্গল-জ্যোতি।
সেই নিঃশব্দ সাঁঝবেলা পেরিয়ে ধীরে ধীরে নামে রূপালী রাত।
চাঁদের আলোয় পুকুরের জল চকচক করে, প্রদীপের শিখা দুলে ওঠে হাওয়ায়।
দূর থেকে ভেসে আসে ছাতিমের গন্ধ, আর ঝিঁঝিঁ পোকার ঐকতান।
মেঠো ইদুরের ছুটোছুটি ক্ষেতময়।
কুয়াশা মাখা ধানের শীষে হিমেল হাওয়া গেয়ে ওঠে নরম সুরে, নতুন ধানের আগমনীর গান।
তেমনই এক হেমন্তের বিষণ্ণ দিনে, কার্তিকের শেষ বেলায় আমার ইচ্ছে জাগে “খুদের বউয়া” রান্না করে কাছের মানুষের পাতে সাজিয়ে দিতে ।
ঠিক যেমন করে কোনো এককালে বানাতো বামমা ।

"খুদের বউয়া" ( Khuder Boua)
Ingredients
Method
- খুদের চাল ২–৩ বার ধুয়ে, ভিজিয়ে রাখুন। ১০–১৫ মিনিট পর জল ঝরিয়ে আলাদা করে রাখুন।
- কড়াইতে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে প্রথমে নতুন আলু দিয়ে হালকা সোনালি করে ভেজে নিন।
- এবার ফুলকপি দিয়ে সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
- বাকি তেল টুকু আর একটু ঘি দিয়ে, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। হালকা সুবাস এলে চাল, আদা দিয়ে ৫–৬ মিনিট নেড়ে একটু ভাজুন, যতক্ষণ পুরপুর আওয়াজ হচ্ছে ।
- এখন ২ কাপ গরম জল দিন, নুন আর চিনি দিয়ে ঢেকে দিন।মাঝারি আঁচে ১০মিনিট রান্না হতে দিন। তারপর ভাজা আলু, ভাজা ফুলকপি ও কড়াইশুঁটি দিয়ে দিন।
- মাঝারি আঁচে আরও ১০মিনিট রান্না হতে দিন যতক্ষণ না চাল ফুলে নরম হয়।
- সব জল শুকিয়ে গেলে, গরম থাকা অবস্থায় বাকি ঘি ছড়িয়ে দিন। ঢেকে ৫-১০ মিনিট দমে রাখুন।

কার্তিকের শেষ বেলায় নতুন আলু, কড়াইশুঁটি আর ফুলকপির গন্ধে ভরা “খুদের বউয়া” ফিরিয়ে আনে শৈশবের সেই উঠোন, শিশিরের ঘ্রাণ, ঝুপ করে নেমে আসা সন্ধ্যে, আকাশপ্রদীপ, আর বামমার রান্নাঘরের উষ্ণ স্মৃতি।





Leave a Reply