
ঝুলন পূর্ণিমা এলেই কী অদ্ভুতভাবে ছোটবেলাটা ঘুরে ফিরে আসে।
কত বছর আর ঝুলন সাজানো হয়ে ওঠে না। অথচ এই সময়টা এলেই মনে হয়, এই তো সেদিনের কথা!
বাপীদের হাসপাতালের গ্যারেজ ঘরটাই ছিল আমাদের ঝুলনের ঘর।
সেই তিনদিন একমাত্র মহিন্দ্রা জিপটা এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকত, আর গোটা গ্যারেজ জুড়ে চলত আমাদের ঝুলন সাজানোর মহাযজ্ঞ।
প্রতিবছর নতুনভাবে সেজে উঠত আমাদের ঝুলন।
কখনও গ্রামবাংলার প্রতিফলন, কখনও সীমান্তে যুদ্ধ করা সৈনিকদের নিয়ে কোনও দৃশ্য।
কোথাও পুকুর, কোথাও বাগান, কোথাও পাহাড়, তো কোথাও নদী-সমুদ্রের জলে ভেসে থাকা জাহাজ।
পাহাড়ি রাস্তা, ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম, মাটির বাড়ি, চারপাশে গাছপালা—কত কী যে বানানো হতো, বলে শেষ করা যাবে না।

কার্ডবোর্ড কেটে তৈরি হতো ঘরবাড়ি, ছোট্ট পুতুলেরা হতো সেই বাড়ির বাসিন্দা।
কোথাও ছোট্ট বাগান, কোথাও রাস্তা, কোথাও পাহাড়ের গায়ে গাছপালা।
আর একপাশে সুন্দর করে সাজানো থাকত ঝুলনা।
সেখানে মাটির রাধাকৃষ্ণের মূর্তি। ফুল, মালা আর আলো দিয়ে সাজানো সেই ছোট্ট ঝুলনটাই যেন হয়ে উঠত আমাদের সমস্ত আয়োজনের প্রাণ।
কিশোরদাদার নেতৃত্বে আমি, সোমা, দাদা, রুবলু, টুবলু, ঝুমলি আর আরও অনেকে মিলে সেই কাজ করতাম। পাহাড় বানানোর জন্য মাটি চাই, গাছপালা চাই, রাস্তার জন্য বালুমাটি চাই—কোথা থেকে কী জোগাড় হবে, সেই নিয়েই স্কুলে বসে আমাদের কত আলোচনা! তখনকার দিনে তো হাতের কাছে এত কিছু পাওয়া যেত না। তাই যা পাওয়া যেত, তাই দিয়েই তৈরি হতো আমাদের ঝুলন।
স্কুল ছুটি হলেই একছুটে গ্যারেজ ঘরে। কী কাজ হলো, আর কী বাকি—সেসব দেখার জন্য যেন তর সইত না।
ঝুলনের সেই কদিন ছিল আমাদের কাছে একেবারেই অন্যরকম আনন্দের।
পাড়ার সবাই মিলে দেখতে আসত।
প্রসাদও আসত পালা করে সবার বাড়ি থেকে। কার বাড়ি থেকে আজ কী আসবে, সেটাও ছিল আমাদের উৎসবের একটা বড় অংশ। শেষের দিন আমরা বাচ্চারা আবার রাধাকৃষ্ণ সেজে ঘুরে বেড়াতাম।
সেই গ্যারেজ ঘর নেই, সেই ঝুলন নেই, সেই দলটাও আর নেই। শুধু ঝুলন পূর্ণিমা এলেই কোথা থেকে যেন সেই ছোট্ট মেয়েটা আবার ফিরে আসে—স্কুলের ব্যাগটা ছুড়ে রেখে মনে মনে একছুটে সেই গ্যারেজ ঘরে চলে যায়। ❤️

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই আমি গন্ধরাজ লেবু পাতার সন্দেশ বানিয়ে ভোগ সাজিয়ে দিই |
সবাইকে ঝুলন পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।

Ingredients
Method
- প্রথমে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে নিন। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ বন্ধ করে গন্ধরাজ লেবুর পাতাগুলো দিয়ে ৫–১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে দুধে ৫-৬ টাগন্ধরাজ পাতার সুন্দর সুগন্ধ মিশে যাবে। এরপর পাতাগুলো তুলে নিন।
- এবার দুধে ১/৩ কাপ টক দই দিয়ে ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন। দুধ কেটে ছানা তৈরি হলে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন।
- জল ঝরে গেলে ছানাটি একটি থালায় নিয়ে হাতের তালুর সাহায্যে ভালো করে মেখে মসৃণ করে নিন। এবার ১/৩ কাপ চিনি দিয়ে ছানার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
- ছানা-চিনির মিশ্রণটি একটি কড়াইতে নিয়ে কম আঁচে রান্না করুন। এই সময় আরও ৩–৪টি গন্ধরাজ লেবুর পাতা দিয়ে দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন, যাতে মিশ্রণটি কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায় এবং পাতার সুগন্ধ ভালোভাবে মিশে যায়।
- মিশ্রণটি যখন ধীরে ধীরে কড়াইয়ের গা ছেড়ে আসতে শুরু করবে, তখন আঁচ বন্ধ করে দিন। বেশি সময় রান্না করবেন না, তাহলে সন্দেশ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
- এবার গন্ধরাজ লেবুর পাতাগুলো তুলে ফেলে দিন। মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা হলে আবার একবার ভালো করে মেখে নিন।
- সন্দেশের ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে নিন। ঘি শুধু ছাঁচে লাগাবেন, ছানার মিশ্রণের সঙ্গে মেশাবেন না। এরপর ছানার মিশ্রণটি ছাঁচে দিয়ে ভালোভাবে চেপে নকশা ফুটিয়ে তুলুন।ছাঁচ থেকে সাবধানে সন্দেশ বের করে ওপরে সামান্য পেস্তা গুড়ো ছড়িয়ে সাজিয়ে দিন।





Leave a Reply