
করিমগঞ্জের দুপুরগুলো ছিল বড্ড ধীর, স্থির—
ঠিক যেন ছাদ থেকে ঝুলে থাকা সেই পুরনো পাখাটার মতো। ঘুরছে ঠিকই, কিন্তু একরকম অলস, মন্থর গতিতে।
শুধু বামমার রান্নাঘরেই যেন ছিল না কোনো বিরাম। সেটা ছিল দাদুর দেওয়াল ঘড়িটার মতো—
সারাক্ষণ টিক-টিক, টিক-টিক, একটানা।
স্কুল ফেরতা দাদা আর আমি, তপ্ত দুপুরে, ঘন গরমে চুপচাপ হেঁটে ফিরতাম পাড়ার ফাঁকা রাস্তা ধরে।
নিঝুম দুপুর, নিস্তব্ধ চারপাশ।
বাড়ির কাছাকাছি এলেই শুরু হতো প্রতিদিনের সেই খেলা।
আমার হাত চেপে ধরে, হাসতে হাসতে বলত, “বামমা আজকে কী বানাচ্ছে বল তো, বনু?”
আমি লাল ফিতে বাঁধা বিনুনী দুলিয়ে বলতাম, “ঠিক বললে আমায় কী দিবি রে, দাভাই?”

তারপর দুজনে একছুটে গেট পেরিয়ে, স্কুলের ব্যাগ দালানে ছুঁড়ে রেখে রান্নাঘরের দরজার কাছে এসে চোখ বুজে গভীর শ্বাস নিতাম।
দাদা গুনত—এক, দুই, তিনননন…
পাকা আমের গন্ধে দালান জুড়ে ম ম।
ঝপ করে মনে পড়ল—আজ সকালে দিদিকে দেখেছি বামমার কালো পাথরের ছাঁচগুলো বার করতে।
সেগুলো থাকত টিনের একটা পুরোনো বাক্সে, তার ভেতরে পাতানো থাকত হলদেটে পুরোনো খবরের কাগজ, তার গায়ে লেখা ঝাপসা পুরনো বাংলা হেডলাইন।
“আজ তো নির্ঘাত আম-ডাল হয়েছে! আমার প্রিয়!”
আমি বললাম, “তোর সবই প্রিয়! এটা আম সন্দেশ, আমি জানি।”
“একটা সন্দেশ বেশি তোর” দাদা হেসে আমার কপালে ঠুস করে টোকা মেরে দৌড়ে ঢুকে পড়ল ঘরে।

রান্নাঘরের এক কোণে, বামমা বসে আছেন পিঁড়িতে পরনে ঘী-রঙা শাড়ি, মাথায় সাদা-কালো চুলে খোঁপা, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা, ঘামে ভেজা কপাল|
বাইরের একফালি আলো এসে পড়েছে জানালা দিয়ে, মসৃণ কালো থালায় উজ্জ্বল কমলা রঙের মন্ড।
বামমার দুই হাত ঘিয়েতে মাখামাখি, চোখে নিখুঁত মনোযোগ।
একেকটা ছাঁচে মন্ড চাপিয়ে ধীরে ধীরে, খুব যত্নে তুলে আনছে একেকটা আম সন্দেশ| ঠিক যেন একটি সোনাঝরা সোনালু ফুল|
বহু গ্রীষ্ম-বর্ষা পেরিয়ে আজ মনে হয় খানিকটা হলেও ইচ্ছে করে দাদা আমায় জিতিয়ে দিত।
ভালবাসার রূপকথারা যখন মনের কোণে ভিড় জমায়, কড়াইয়ে গা থেকে উঠে আসা আম-ছানার মন্ড নামাই , কাঠের কলসী ছাঁচে দিয়ে আম সন্দেশ তুলি।
একটু কাঁচা আমের ঝাল মিষ্টি জ্যাম দিই|
সেই কবেকার কিনে আনা, বোন চায়নার প্লেটে রাখি|

আম সন্দেশ
Ingredients
Method
- একটি প্যানে কাঁচা আমের পাল্প , গুড় আর বিটনুন দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন|
- একটু জল শুকিয়ে গেলে, স্বাদ অনুযায়ী ঝাল আর মিষ্টি সামঞ্জস্য করুন। পুরোটা শুকিয়ে জ্যাম এর মতো হয়ে এলে নামিয়ে রাখুন ।
- একটি থালায় ছানা হাতের তালু দিয়ে মাখুন যতক্ষণ না মসৃণ হয়ে একটা মন্ড হয় ।
- আমের রস, চিনি একটি পাত্রে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি একটি প্যানে নিয়ে মাঝারি আঁচে বসান।
- মাঝেমধ্যে নাড়তে থাকুন। যখন মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে আসবে, তখন মাখানো ছানা দিয়ে আবারও কম আঁচে রান্না করুন|
- একটু জল শুকিয়ে গেলে, স্বাদ অনুযায়ী চিনি সামঞ্জস্য করুন। ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে তলায় না লেগে যায়।
- যতক্ষণ না পুরো আম আর ছানার মিশ্রণটি প্যানে থেকে ছেড়ে উঠে আসছে, কম আঁচে রান্না করুন । একটু ঠান্ডা হতে দিন ।
- পছন্দের ছাঁচে ঘি মাখিয়ে, একটু মিশ্রণটি নিয়ে চেপে ছাঁচ তুলুন।
- আমি একটি ফুলকাটা কলসি ছাঁচে নিয়ে কলসি আকারে তৈরি করেছি । কড়ে আঙ্গুল দিয়ে এক জায়গা বানিয়ে তাতে কাঁচা আমের জ্যাম দিন| আলতো ভাবে ছাঁচ থেকে তুলে নিন ।






Leave a Reply