
রবিবার সকালে আধঘুমে থাকা আমার ছোট্ট শহরতলির ছবি থাকে বেশ অন্যরকম ।
হাঁকডাক কম, শুনশান রাস্তা।
স্কুল নেই, আপিস নেই । তখনও বাড়িতে বাড়িতে কুকারের সিটি বাজেনি, তাড়া নেই কারও।
একটা ঘুম চোখে নিস্তব্ধ সকাল,আর চুপচাপ বয়ে যাওয়া সময়।
শুধু বাড়ির গেটের ঠিক বাইরে পুরনো শিরীষ গাছে বসে একদল চড়ুই, কিচিরমিচির। তারা জানেনা আজ রবিবার।
ছুটি নেই কাগজওয়ালা দাদারও।
কাকভোরে গোল পাকিয়ে দালানে ছুঁড়ে দিয়ে গেছে খবরের কাগজ।
দুধওয়ালা ভোলাকাকুরও, সে রোববারও টুংটাং সাইকেলের ঘণ্টায় বাজিয়ে আসে। ঘুম ভাঙে আমার ।
আর পাশের রেললাইন দিয়ে চলে যাওয়া ট্রেনেরও তো নয়ই।
সেইরকম এক সকালে, বাপি বারান্দার বড় চেয়ারে বসে খবরের কাগজে পুঙ্খানুপুঙ্খ চোখ বোলাচ্ছে। বামমা তার পাশে শীতলপাটি বিছিয়ে, হাতে রামায়ণ। রোদটা একটু একটু করে পায়ের কাছ ছুঁয়ে চলে যাচ্ছে । মাঝেমধ্যে বাপি আর বামমা মৃদু গলায় কিছু কথা বলছে। মায়ের বারণ থাকা সত্ত্বেও আমি ধুপ ধুপ করে ছুটে গিয়ে বামমার গা ঘেঁষে বসে পড়লাম।
“আজ রামায়ণ নয়,” আমি বললাম, “আজ আমি রবিঠাকুর শুনবো। তুমি পড়ে শোনাও না?”
ছুট্টে গিয়ে আমি শিশু ভোলানাথ নিয়ে এলাম ,
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়
একেবারে উড়ে যায়;
কোথা পাবে পাখা সে?
তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে’ তার,–
মনে মনে ভাবে, বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই|
আমি বড়ো হয়ে তালগাছ হয়ে আকাশ ছুঁয়ে দেখবো।
বাপি মিষ্টি হেসে বলল, তালগাছ মতো উঁচু হতে গেলে একটা ইচ্ছেডানার বড্ড প্রয়োজন, সেই ইচ্ছে টা যেন সবসময় তোর থাকে।
চোখ গোল করে জিজ্ঞেস করলাম, “বড়ো হলে তবে কি আমার পাখির মতো ডানা গজাবে?”
সেদিন বাপি শুধুই হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিল ।
কথাটা তখন ঠিক বুঝিনি।

বহু বছর পরে, অন্য এক শহরে, অন্য এক রবিবারে—এক রেস্তরায় তালশাস চিংড়ির ইয়েলো কারী খেতে খেতে কেন জানি মনে পড়ল সেই দিনটার কথা।
মন খারাপের মেঘেরা যখন মনিকোঠায় আঁকিবুঁকি কাটে, তখনই হয়তো সেই কবেকার স্মৃতিমেদুর মুহূর্তগুলো একেকটা রোদ্দুরের ফালি হয়ে ভেসে আসে।
স্বাদের মানচিত্রেরও কি কোনো ঠিকানা হয়?
হতে পারে কি- সেই ঠিকানাটা একটা ছোট্ট শহরতলির অলস রবিবার সকাল, যেখানে গন্ধে, রোদে আর ভালোবাসায় মিশে থাকে ইচ্ছেডানারা।
তেমনিই আরেকটি রবিবারের দুপুরে আমি তালশাস চিংড়ি রান্না করি । গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতে আর তালশাস চিংড়ি ঝোলে শৈশবের গন্ধ খুঁজে বেড়াই ।


তালশাস চিংড়ি
Ingredients
Method
- চিংড়ি মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করে, পেছনের কালো শিরা ছাড়িয়ে, ধুয়ে নিন | হালকা হলুদ ও নুন দিয়ে ভালো করে মেখে রাখুন |
- কড়াইয়ে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করুন. চিংড়ি মাছ হালকা ভেজে তুলে রাখুন |
- বাকি তেল দিয়ে দিন । থেঁতো করা এলাচ আর তেজপাতা দিয়ে দিন । তারপর পেঁয়াজের রস , আদার রস কাঁচা লঙ্কা বাটা আর একটু নুন দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন।
- কাঁচা গন্ধ চলে গেলে হলুদ গুঁড়ো, নারকেল দুধ , ৩/৪ কাপ গরম জল, চেরা কাঁচা লঙ্কা, গোল করে কেটে রাখা তালশাঁস দিয়ে কম আঁচে মিনিট পাঁচেক রান্না করুন।
- আগে থেকে ভেজে রাখা চিংড়ি দিন। স্বাদ মতো নুন-চিনি দিয়ে কম আঁচে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন।
- পাতলা করে কেটে নেওয়া আদা ঘিয়ে ভেজে ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিন।





Leave a Reply