
একসময় আমাদের বাড়ির ছোট্ট স্টাডি রুমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসবাবটি ছিল একটা কাঠের রেডিও। মা-র হাতে সেলাই করা কাপড়ের ঢাকা দিয়ে ঢেকে রাখা হতো তাকে। গায়ে সারি সারি নব, ডায়াল আর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যান্টেনা।
হাসপাতালে সারাদিন রোগী দেখে ফিরে বাপির প্রিয় আশ্রয় ছিল এই স্টাডি রুমটাই।
রেডিওর সামনে বসে কতক্ষণ যে নব ঘোরাতো , অ্যান্টেনা নাড়াচাড়া করতো! তারপর হঠাৎই ঝিরঝিরে শব্দ পেরিয়ে ভেসে উঠত বিবিসির স্পষ্ট কণ্ঠস্বর। আমাদের ডেকে বাপি বলতো- ‘ভাবতে পারিস, এত দূরে বসে কেউ কথা বলছে, আর আমরা এখানে বসে শুনতে পাচ্ছি! এটাই বিজ্ঞানের শক্তি।’
কখনও রেডিওয় শোনা যেত ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ফুটবল ধারাভাষ্য, কখনও বা অলস দুপুরে আকাশবাণী কলকাতার রবীন্দ্রসংগীত। সেই গান শুনেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়, যে ভালোবাসা আজও অমলিন।
তারপর বাড়িতে এল সাদা-কালো টেলিভিশন।
দিন গড়িয়ে বছর হলো।
আর একসময় বাপির একদিনের পরম প্রিয় রেডিওটা ধীরে ধীরে বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেল।
শুধু বছরের একটি দিন বাদে।

মহালয়া।
সেই একটি দিন, যেদিন রেডিও আবার ফিরে পেত তার পুরোনো আধিপত্য । সে নিয়ে আসত দেবীপক্ষের সূচনার আগমনী বার্তা।
ভোরের আলো ফোটার আগেই রেডিওটা সেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই উদাত্ত, আবেগমথিত কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী।
চেনা গমগমে মন্ত্রোচ্চারণ ঘর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ত গোটা পাড়ায়। এক বাড়ির রেডিওর আওয়াজ গিয়ে মিলত পাশের বাড়ির রেডিওর সুরে।
রাস্তায় তখনও লোকজন ।
পাড়ার কোনও কাকু কাকিমা হয়তো পিতৃপুরুষের তর্পণে।
আমাদের বাড়ির ছবি খানিকটা এমনই ।
লাল অক্সাইডের মেঝে-ওয়ালা দালান।
বাপির পাশে রেডিও।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠ।
ঢুলু চোখে দাদা আর আমি।
শাঁখের আওয়াজ ।
ধূপ-ধুনোর গন্ধ।
রাতভর ঝরে পড়া শিউলিরা।
গাছ জুড়ে স্থলপদ্মেরা।
ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ।
পুরোনো টিনের কৌটা থেকে সযত্নে বেরিয়ে আসা কাঁসার রেকাবীতে বামমার হাতের তৈরি ধবধবে সাদা নারকেল ছাপা ।
সময় বদলেছে, কত কিছুই যে হারিয়ে গেছে তার লেখাজোকা নেই।
তবু মহালয়া এলেই মনে হয় এই তো সেদিনের কথা ।
কংক্রিটের শহরে এমনই এক মহালয়ার সকালে আমি বামামার মতোই নারকেল ছাপা বানাই।


Ingredients
Method
- নারকেল কুরিয়ে শিলনোড়ায় অল্প অল্প করে বেটে একেবারে মিহি করে নাও। জল দেবে না। নারকেল যত মিহি হবে, নারকেল ছাপের গঠন তত মসৃণ হবে।
- ভারী তলার কড়াইয়ে বাটা নারকেল ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে কম আঁচে বসাও। ক্রমাগত নাড়তে থাকো। প্রথমে চিনি গলে মিশ্রণটি কিছুটা পাতলা হবে, তারপর ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসবে।
- মিশ্রণটি যখন কড়াইয়ের গা ছেড়ে একসঙ্গে জমতে শুরু করবে, তখন আঁচ বন্ধ করো। একটু মণ্ড ঠান্ডা করে আঙুলে নিয়ে দেখো—চেপে ধরলে যেন আকার ধরে রাখে আর হাতে না লাগে , অথচ অতিরিক্ত শুকনো না হয়।
- মণ্ড নামিয়ে অতি সামান্য ভোজ্য কর্পূর মিশিয়ে নাও। কর্পূর বেশি দিলে স্বাদ তীব্র হয়ে যাবে। খাবারের উপযোগী ভোজ্য কর্পূরই ব্যবহার করবে, পূজার কর্পূর নয়।
- মণ্ড হালকা গরম থাকতে থাকতে ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে নারকেলের মিশ্রণ ভালো করে চেপে ভরো।
- নারকেল ছাপগুলি একটি থালায় সাজিয়ে ঠান্ডা হতে দাও। ঠান্ডা হলে মিষ্টিগুলি একটু শক্ত হবে।






Leave a Reply