
কোনো কোনো দিন সেই কাকভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়।
চায়ের কাপ হাতে কংক্রিটের শহরের ছোট্ট বারান্দায় বসি।
সূর্য তখনও পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে।
দরজার ঠিক পাশের কমলা ঢাকলতা গাছে যে বুলবুলিটা বাসা বেঁধেছে, হঠাৎ পাশ কেটে উড়ে গেল।
সেইসব সকালে জেগে জেগেই যেন স্বপ্ন দেখি।
করিমগঞ্জের সেই বাড়িটা।
সামনের ফটকের দুই পাশে হলুদ অলোকানন্দা আর মাধবীলতা—তখনও আধঘুমে, শিশিরে ভেজা।
বাগানের এককোণে লেবু ফুল ।
সজনে গাছের গা-জুড়ে সাদা কুঁড়ির গয়না ।
ভোরের আলো বাগানের বাঁশের বেড়া পেরিয়ে রান্নাঘরের দেওয়াল জুড়ে ।
উনুন থেকে হালকা ধোঁয়া।

বামমার গায়ে তখনও শাল জড়ানো ।
চালের গুঁড়ো ছেঁকে বড় পেতলের বাটিতে রাখা । পাশে কোরানো নারকেল। একপাশে কুচো চিংড়ি।
এক কোণে দিদি শীলনোড়ায় সরষে বাটছে, সাথে বাগান থেকে তুলে আনা শীতের লাল লঙ্কা।
নোড়া ঘোরানোর শব্দে কেমন একটা ঝিম ধরা ছন্দ।
উনুনের আঁচে বসানো মাটির হাঁড়ি।
মুখ বাঁধা সাদা কাপড়ে, টগবগ ফুটছে জল।
হাতে একটা ছোট্ট বাটিতে চালের গুঁড়ো, তার উপর সর্ষে মাখা চিংড়ি আর নারকেল ।
তারপর আবার চালের গুঁড়ো ছড়িয়ে, ভেজানো মসলিন কাপড়ে ঢেকে, নিপুণ ভাবে উল্টে বসিয়ে দেওয়া হলো মাটির হাঁড়ির উপরে ।
চাপা দেওয়া হলো বড়ো একটা সরা।
কাসার ছোট্ট থালায় উপরে টমেটো পোড়া চাটনি । আর চিংড়ির ভাপা পিঠা |
সেই কতকাল আগের কথা ।
মনে হয় এইতো এখনো জীবন্ত ।
সেই স্বপ্নের রেশ ধরে বসন্তের কোনো এক সকালে চিংড়ির ভাপা পিঠা বানাই।

কিছু ভোর কখনও শেষ হয় না।
ওরা শুধু বাড়ি বদলায়।
একটা বারান্দা ছেড়ে আরেকটা বারান্দায় এসে বসে।

Ingredients
Method
- চিংড়ি মাছ সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে রেখে দিন।
- টমেটো ও রসুন খোলা আঁচে পোড়ান যতক্ষণ না খোসা ঝলসে যায়। ঠান্ডা হলে খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে বেটে নিন।
- কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
- এরপর টমেটো বাটা, হলুদ ও নুন দিয়ে , জল শুকিয়ে না আসা অবধি কষান।
- কুচো চিংড়ি দিয়ে ১–২ মিনিট রান্না করে আঁচ বন্ধ করুন। ঠান্ডা হতে দিন।
- সর্ষে হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রেখে দিন । জল ঝরিয়ে, কাচালংকা দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। একটি বাটিতে নিয়ে, একটু জল মিশিয়ে, ছেঁকে নিন।
- কড়াইয়ে তেল গরম করে , পেঁয়াজের রস দিয়ে কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।এবার হলুদ ও সর্ষে ছাঁকা জল দিয়ে আরও ৩–৪ মিনিট কষান।
- ১/২ কাপ গরম জল ও নারকেল দুধ দিন। স্বাদ মতো নুন-চিনি দিয়ে কম আঁচে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন।
- চালের গুঁড়োর সঙ্গে নুন মিশিয়ে নিন।অল্প অল্প জল ছিটিয়ে হাতে মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন মণ্ড যেন ভিজে ব্যাটারের মতো না হয়—ভেজা অথচ ঝুরঝুরে থাকবে।
- মুঠো করে চেপে ধরলে আকার নেবে কিন্তু আঙুলের ফাঁক গলিয়ে বেরোবে না।ঢেকে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর চালের ভেজা গুঁড়ো চালুনী ছেঁকে নিন।
- একটি হাঁড়িতে বা প্যানে ৩/৪ অংশ জল ভরে মুখে তিন স্তর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে মাঝখানে আধ ইঞ্চি ছিদ্র করুন। মাঝারি আঁচে বসান।
- একটি ছোট গোল স্টিলের বাটি নিয়ে শুকনো চালের গুঁড়ো ছিটিয়ে ঝেড়ে নিন।ছেঁকে রাখা চালের গুঁড়ো দিয়ে বাটির তলা ও চারপাশ সমান করে ঢেকে দিন।
- তার উপর ১ চা চামচ কোরানো নারকেল, ২ চা চামচ চিংড়ির পুর, আবার ১ চা চামচ নারকেল দিয়ে উপরে আবার চালের গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে আলতো চাপ দিন।
- একটি ভেজা মসলিন কাপড় দিয়ে বাটির মুখ ঢেকে কাপড়ের প্রান্ত নিচে জড়ো করুন।
- পাত্রের ছিদ্র দিয়ে জোরে ভাপ উঠলে বাটিটি সাবধানে উল্টে বসান। বাটি আলতো টোকা দিয়ে খুলে নিন। দ্রুত কাপড় দিয়ে ঢেকে ঢাকনা দিন।
- মাঝারি আঁচে ৭–৮ মিনিট ভাপে রান্না করুন।
- ঢাকনা খুলে আলতো করে পিঠা তুলে নিন। কাপড় সরিয়ে উপর থেকে সামান্য কোরানো নারকেল ছড়িয়ে গরম ঝোলের সঙ্গে পরিবেশন করুন।





Leave a Reply