
কালীপুজো আসতে না আসতেই হেমন্ত নামে— হাওয়ায় মিশে থাকে একরকম নিঝুম বিষন্নতা।
গাছের ডাল থেকে পাতা ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
রোদও কেমন ফিকে হয়ে আসে বিকেলের দিকে।
এক অচেনা একাকীত্বের সুর।
এই রকম দিনগুলোতে হারিয়ে যাওয়া জীবনটার কথা বড্ড মনে পড়ে।
সবকিছুই কত সুন্দর ছিল—
নাকি আমি তখনও ততটাই সহজ ছিলাম?
সময়ের সেই পাতায়, জীবনের এক কোমল অধ্যায় কেটেছিল আমার ছোট্ট শহরতলিতে।
আজও চোখ বুজলেই দেখি— কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা শাখা,
শিউলিতে ঢাকা সাদা রাস্তা,
আর সেই পথ ধরে হেঁটে চলা নিরুদ্বেগ বিকেলগুলো।

অল্প জিনিসেই খুশি হওয়ার চাবিকাঠী হয়তো বা ছিলো জানা।
বৃষ্টি নামলেই , মাটির সোদা গন্ধ ।
কাকভোরে পাখির কিচির মিচির, বাগানের কোনো নতুন ফুল, বা শীতের টাটকা শাকসবজি।
রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ফুটতে থাকা ভাতের গন্ধ— সাধারণ উপকরণে তৈরি হওয়া অসাধারণ সব রান্না, নতুন চালের বা নতুন গুড়ের গন্ধ , ঐটুকুতেই ভরে উঠতো মন।
ঝড়ের পর কুড়িয়ে আনা কাঁচা আম,
গাছের নিচে বসে পাকা জাম- কাসুন্দি দিয়ে খাওয়া,
বারান্দায় এক কোণে বসে জাম্বুরা মাখার গল্পেরা
যখন তখন ঘুরে বেড়ায় মনের কোণে ।
ঋতু বদলায়, বছর ঘুরে যায়, তবু মন বারবার ফিরে যায় সেই শৈশবের উঠোনে, ফেলে আসা ঘরবাড়িতে, খুঁজে ফেরে মাধবীলতা আর অলকানন্দায় ঢাকা লোহার সেই গেটটাকে।

সেই নিঃশব্দ বিষন্নতা কাটাতে, হেমন্তের এক নির্জন দুপুরে আমি রান্নাঘরে যাই।
দেখি, কাচের দরজা ভেদ করে একফালি মোলায়েম রোদ্দুর আমার মডুলার রান্নাঘরের দেওয়ালে পা ঝুলিয়ে বসে আছে।
আমি ফ্রিজ খুলে কুচো চিংড়ি আর ভেটকী মাছ বার করি।
বহু যুগ আগে, এমনই এক নরম রোদ্দুরের দুপুরে সরষে-নারকেল মাখা চিংড়ি জমার স্বাদ,
কয়লার উনুনের ধোঁয়া, আর পোড়া কলাপাতার মেঠো গন্ধ—
আজও যেন ঠিক ততটাই জীবন্ত।
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই চিংড়ির পুরে গোটা ভেটকিকে মুড়ে কলাপাতায় জড়িয়ে নিই।
গ্যাসের নরম আঁচে ভাজতে ভাজতে ভাবি-
এই তো জীবন,
স্বাদে আর স্মৃতিতে মিশে থাকা
এক অনন্ত স্বপ্নের মিছিল।
চিংড়ি ভেটকির মিলমিশ
Ingredients
Method
- মাছ ভালো করে ধুয়ে শুকনো করে মুছে নাও। গায়ের দুদিকেই ছুরি দিয়ে তিন চার জায়গায় চিরে নাও।
- লেবুর রস, নুন ও সামান্য হলুদ মেখে ২০ মিনিট রেখে দাও।
- সাদা সর্ষে আর কালো সর্ষে, ১৫ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রাখো। ৪-৫ টা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে, খুব অল্প জল দিয়ে মিহি করে বেটে নাও।
- একটি বড়ো বাটিতে ৩ টেবিল চামচ সর্ষের তেল , সর্ষে বাটা, পেঁয়াজ কুচি, নারকেল বাটা , বাকি কাঁচা লঙ্কা কুচি, নুন , চিনি , হাত দিয়ে ভালো করে মেখে নাও ।
- এখন তাতে আধ-বাটা কাঁচা চিংড়ি মেশাও।
- প্রথমে ভেটকীর পেটের ভেতর এই পুর ভরো।
- তারপর বাকি পুরটা মাছের বাইরের দিকেও পাতলা করে প্রলেপ দাও, ছবির মতো । যেন মাছের গায়ে দুদিক থেকে চিংড়ি-মশলার প্রলেপ থাকে।

- কলাপাতায় তেল লাগিয়ে পুরের প্রলেপ দেওয়া মাছ রেখে ভালোভাবে মুড়ে , সুতো দিয়ে হালকা বেঁধে নাও, যাতে মোড়াটা শক্ত থাকে। কলাপাতার উপর সর্ষের তেল মাখিয়ে নাও।

- একটা তাওয়া ব চাটু গরম করে সর্ষের তেল লাগিয়ে নাও। কম আঁচে প্রতি দিক ১০-১২ মিনিট চাপা দিয়ে ভাজো যতক্ষণ না পাতায় বাদামি দাগ ধরে।
- লোহার শলা দিয়ে দেখে নাও, মাছ সেদ্ধ হয়েছে কি না ।
- কলাপাতা খুলে আরো একটু সর্ষের তেল ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করো।





Leave a Reply