
আচ্ছা, রান্না কি শুধুই রান্না?
নাকি সে এক স্মৃতি, অনুভূতি আর ভালোবাসা মোড়া, যার গায়ে লেগে থাকে কখনো বাড়ির মেঠো গন্ধ, হাসির রেশ, আর চেনা হাতের উষ্ণতা।
মায়ের রান্নাঘরে মুগ ডাল ভাজার সেই হালকা বাদামি গন্ধ, আজও যেন আমাকে মনে করিয়ে দেয় সেই গ্রীষ্মের ছুটি আর রবিবারগুলো ।
গরম তেলে পাঁচফোড়নের ঝাঁঝালো গন্ধ
আমাকে নিয়ে যায় করিমগঞ্জের সেই রান্নাঘরে।
দিদি, মানিককাকা, আর বহুদিন আগে পেছনে ফেলে আসা সেই বাড়িটা।
হলুদ গুঁড়োর দেওয়ার সময় মনে পড়ে যায়-
চোখ বড় বড় করে দেখতাম,
কীভাবে বামমার অভ্যস্ত হাতে একটা সাধারণ তরকারি ধীরে ধীরে সোনালি হয়ে উঠত হলুদের ছোঁয়ায় । আমার ছোটবেলার ম্যাজিক রং ।
এখনও মনে আছে, সেই প্রথম নলেন গুড়ের পায়েসের রান্না করা কথা । তলায় বেশ কিছুটা ধরে গেছিলো। তাও সেই শীতের সকাল বাপি এক চামচ মুখে দিয়ে হেসে বলেছিলেন,
“দারুণ হয়েছে রে মা।”
আজও পায়েস করতে গেলে সেই সকালটা যেন ঘিরে থাকে গোটা আমায় ।

সরস্বতী পুজোর পর ভোগের খিচুড়ি, লাবড়া, এখনও আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় করিমগঞ্জের বাড়ির দালানে বসে খাওয়ার দিনগুলো সাথে থাকতো এক জামবাটি পয়রা গুড়ের পায়েস ।
পুজোর পরদিন হতো দধিকর্মা ।
তখনো গোটা-সেদ্ধর প্রবেশ হয়নি আমার ক্যানভাসে।
জোড়া ইলিশের চলও ছিলো না আমাদের, দিদার কাছে শুনেছি আমার মামাবাড়ির হতো কোনো এক সময় ।
বাঙালদের কাছে যদিও সরস্বতী পূজোই ছিল রুপোলি রানির—ফিরে আসার উৎসব ।
আমার ছোটবেলার ক্যানভাসে জুড়ে তখন ছিল
সুগন্ধি আঠালো বিন্নি ভাত, (বামমা বলতো – বিরইন চালের ভাত)
ইলিশ ভাজা,
সাথে নলেন গুড়ের গন্ধে ভরা এক বাটি ক্ষীর।
প্রায়শই অতীতের কাব্যগাঁথা এমনই হঠাৎ করেই সামনে এসে দাঁড়ায়।
আর এই চেনা স্বাদের শিকড় প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে যায় ।

বিন্নি ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা আর নলেন গুরের ক্ষীর । কিছু রান্নার ঠিক কোনো রেসিপি হয় না , শুধুমাত্র হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলাকে ছুঁয়ে দেখার প্রচেষ্টা ।





Leave a Reply